জাহিদুল ইসলাম জাহিদ কুয়াকাটা-কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:-

করোনা নামক মহামারি পাল্টে দিয়েছে বিশ্বের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশের মানুষের জীবনেও এ ব্যাধি চাপিয়ে দিয়েছে নানা শৃঙ্খল। মানুষের খাদ্যাভ্যাস, চলাচল, আনুষ্ঠানিকতা, বিনোদন থেকে শুরু করে সব কিছুতেই অস্বস্তি সৃষ্টি করে চলেছে করোনা। বাধা সৃষ্টি করেছে ভ্রমণপিপাসুদের যাত্রায়।

সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে কুয়াকাটা ১ জুলাই পর্যটকদের জন্য, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হোটেল সহ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি পোষণ করেন জেলা প্রশাসক।
লকডাউন থেকে পর্যটকশূন্য ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হয়েছিল এই পর্যটন নাগরী কুয়াকাটার।
তবে করোনা চলমানের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে পবিত্র ঈদুল আজহা, আনন্দের সাথে উদযাপন করতে পারবে কুয়াকাটায় আশা পর্যটকরা।
কারণ সুন্দরের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা, অপরূপ সাজে সজ্জিত করতে ভ্রমণ পিপাসা মেটানোর জন্য ইতিমধ্যেই পর্যটকদের আনাগোনা চলছে, এই পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় ।
খুশির ছোঁয়া দেখা গেছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের, ইতিমধ্যেই পবিত্র ঈদুল আজহা উপেক্ষা করে সাজিয়ে নিচ্ছে আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ , কেনাবেচা জন্য তৈরি রয়েছে রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, বার্মিজ আচার, কাঁকড়া ফ্রাই, পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত ক্যামেরাম্যান সহ, চটপটি ফুচকার দোকানে দেখা গেছে মানুষের আনাগোনা, কুয়াকাটা দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ পিপাসা মেটানোর জন্য কাজ করতে প্রস্তুত , মোটরসাইকেল ড্রাইভার, অটোরিকশা চালক ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এখনই ,সমুদ্রের মাঝে ভ্রমণ করার জন্য ওয়াটার বাইক টুরিস্ট ভোট ইতিমধ্যেই তৈরী করে রাখা হয়েছে।


রাতের বেলায় সৈকতের দৃশ্য মনমুগ্ধ করে রাখে, এই সাগরকন্যা কুয়াকাটা পর্যটকদের সৈকতের শব্দ আর পর্যটক ব্যবসায়ীদের নানা রঙের বাতির যাক, সুন্দর্যের সম্প্রীতি গড়ে তুলছে, আবারো যেন স্বপ্নের কুয়াকাটাকে স্বপ্নের মতো সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কুয়াকাটা পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপেক্ষা করে ঝিনুক মার্কেট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন ইতিমধ্যেই আমরা বেচাকেনা করার জন্য পর্যটকদের আনাগোনা দেখতে পাচ্ছি, আমরা আশাবাদী পবিত্র ঈদুল আযহার পবিত্রতা বুকে ধারণ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের ঝিনুক মার্কেট এর বেচাকেনা আবার আগের মত ফিরে আসবে।

এদিকে কুয়াকাটা পাঁচতারা হোটেলের ম্যানেজার মোঃ রাসেল আকন জানান, আমরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি লকডাউনে থেকে, সে সময় করোনা ভাইরাস, কুয়াকাটা রূপকে বিনষ্ট করছিল, সেই কষ্টের সময় কে বিসর্জন দিয়ে নতুন রূপে সাজানোর জন্য ব্যস্ত কুয়াকাটা পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তিনি আরো বলেন, আবাসিক হোটেলগুলো সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, মাস্ক পরিধান করে পরীক্ষা করে তাদেরকে হোটেলের রুম ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এবং পর্যটকদের সর্বোচ্চ গাইড দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন, হোটেলের কর্মকর্তারা। এই ঈদুল আজহায় নতুন রূপ নিয়ে হাজির কুয়াকাটার হোটেল মোটেল।

তার কথার সাথে তাল মিলিয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ হোসাইন আমিন ফোনের মধ্যেমে জানান, তারা ট্যুরিজমের সকল সেক্টরকে আবারো পূর্ণরূপে সাজিয়ে নেয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা আশাবাদী করোনা ভাইরাসের বাধা-বিপত্তি করে পর্যটকদের ভ্রমণ পিপাসা সুন্দর ভাবে সফল হবে এমনটাই আশা করছেন তারা। এবং সাথে সাথে পর্যটকদের সাগরকন্যা কুয়াকাটায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোন মোঃ জহিরুল ইসলাম, সরাসরি সাংবাদিকদের বলেন, কুয়াকাটা একটি পর্যটন কেন্দ্র, পযটন কেন্দ্রকে উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের সেবা দেওয়া এটা আমাদের কর্তব্য। আমরা প্রতিনিয়ত ট্যুরিস্টদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি, প্রতিনিয়ত মাইকিং এর মাধ্যমে পর্যটকদের সহ স্থানীয়দের সচেতন করতেছি।

সাগরের ঢেউয়ের তালে তালে পর্যটকদের মন মাতানোর মুগ্ধকর সুন্দর রুপ নিয়ে হাজির হয়েছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। ঈদুল আযহা কুয়াকাটা বিশাল সমুদ্রের সাথে, সম্পর্ক করে আনন্দকে ভাগাভাগি করে, পর্যটকদের সাথে মিলেমিশে ঈদ উদযাপন করবেন সাগরকন্যা কুয়াকাটা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে