ক্যাম্পাস প্রতিনিধিঃ এক যুগ ধরে সরকারি বাঙলা কলেজ কে নেতৃত্ব দিচ্ছে সমাজকর্ম বিভাগ। শুধু বাঙলা কলেজ বললে ভুল হবে কখনো কখনো বা কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে পুরো দেশ তথা আন্তর্জাতিক সীমানায় ও চলে গেছে।

আজ সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের এমন কিছু শিক্ষার্থীদের সাথে আমরা পরিচিত হবো যারা সূর্যের আলোর মত জ্বল জ্বল করে আমাদের কে সফলতার পথ দেখাচ্ছে।

২০০৩ সালে সর্ব প্রথম অনার্স কোর্স এবং ২০০৭ সালে সমাজকর্মে মাস্টার্স কোর্স প্রবর্তন হয়। শুরুতে থেকেই বিভাগ টি তার গর্ভে এমন সন্তানদের ধারণ করছেন যারা কলেজ তথা দেশকে একাধিক বার এনে দিয়েছেন সম্মান। পড়াশোনা, ক্রীড়াঙ্গন , সংস্কৃতিসহ প্রত্যেকটি অঙ্গনে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছে এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

কলেজের ছাত্র রাজনীতি বলতে গেলে সমাজকর্ম বিভাগ কে ঘিরেই প্রবর্তিত হয়।
প্রথমে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী রুবেল হাওলাদার নির্বাচিত হন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে।
টাকার অভাবে তার সমর্থক ছাত্র নেতাদের ঈদ সেলামী দিতে না পারায় নিজের প্রিয় মটর বাইক বিক্রি করে তিনি সেই টাকা দিয়ে নেতাকর্মীদের ঈদ সেলামী দিয়ে স্থাপন করেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
যা ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে বিরল!

এরপর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন সমাজকর্ম বিভাগের আর এক শিক্ষার্থী এইচ.এম জাহিদ মাহমুদ। তিনিও অত্যন্ত সফলতার সহিত দীর্ঘদিন বাঙলা কলেজ কে নেতৃত্ব দেন।

এরপর আবারও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সোলায়মান মিয়া জিবন। প্রায় দীর্ঘ দুই বছর নেতৃত্ব দেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগকে।
ওই সময়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আবার দায়িত্বে আসেন পবিত্র চন্দ্র শীল।
জিবন পবিত্র দুজনেই ছিলেন সমাজকর্ম বিভাগের একই শেষনের শিক্ষার্থী। দুই বন্ধু মিলে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেন সরকারি বাঙলা কলেজের ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীদের। এরপর আর কলেজ ছাত্রলীগের কোন কমিটি হয় নি।

এছাড়াও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃসায়েদ বাসিত। দেশের সীমানা পেরিয়ে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন আন্তর্জাতিক সীমানায়। রোভার স্কাউট সদস্য হিসেবে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন ঢাকা জেলার প্রায় তিন শতাধিক ইউনিট কে যার মধ্যে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মত নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এরপরে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার প্রায় এক হাজারের ও অধিক ইউনিটের।
সাংগঠনিক দক্ষতার পুরস্কার স্বরূপ পেয়েছেন গ্যালান্ট্রি অ্যওয়ার্ড, ন্যাশনাল সার্ভিস,নাম্বার টু দি ন্যাশনাল সার্ভিস,জাতীয় সমাজ উন্নয়ন অ্যওয়ার্ডসহ একাধিক জাতীয় পুরস্কার।

এছাড়াও রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ভ্রমণ করেছেন ইতিমধ্যেই ৩টি দেশে।

সম্পূর্ণ সরকারি খরচে “বাংলাদেশ স্কাউট” র মাধ্যমে হজ্ব করার সুযোগ পান ২০১৫ সালে। মোঃ সায়েদ বাসিত বাঙলা কলেজে সমাজকর্ম বিভাগের (১৬-১৭,মাস্টার্স) এ বর্তমানে অধ্যয়নরত ।
লেখালেখিতে পরিপক্ব বাসিতের “সপ্তনীল ” কবিতার বই ইতিমধ্যেই সাড়া জাগিয়েছে।

এস এম নাজমুল করিম নাহীদ,সরকারি বাঙাল কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের সাবেক সভাপতি । নেতৃত্ব দিয়েছেন ঢাকা জেলার সিনিয়র রোভারমেট প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা জেলার প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রোভারদের। নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ইতিমধ্যেই নিজের ঝুলিতে ভরেছেন গ্যালান্ট্রি অ্যওয়ার্ড, ন্যাশনাল সার্ভিস,নাম্বার টু দি ন্যাশনাল সার্ভিস,জাতীয় সমাজ উন্নয়ন অ্যওয়ার্ডসহ একাধিক জাতীয় পুরস্কার।
সম্পূর্ণ সরকারি খরচে তিনিও হজ্জ করেছেন।
নাহিদ সমাজকর্ম বিভাগ থেকে অনার্স কোর্স সম্পূর্ণ করে (২০১৫-১৬) শেষনের মাস্টার্সে একই বিভাগে অধ্যয়নরত।

জাফর ইকবাল, সমাজকর্ম বিভাগের রার্নিং (২০১৫-১৬,স্নাতক) শেষনের নিয়মিত শিক্ষার্থী। কলেজ শাখা ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি নিজেই প্রতিষ্ঠা করে নেতৃত্ব দিচ্ছেন একাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের।

একমাত্র বাঙলা কলেজ যুব থিয়েটার ছাড়া কলেজের প্রায় প্রতিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনেই বলতে গেলে সমাজ কর্মের এই শিক্ষার্থীর হাতে গড়া।
১৯৯৬ সালে বাঙলা কলেজ বিতর্ক ক্লাব নামে বিতর্কের কার্যক্রম শুরু হলেও সেটি বন্ধ হয়ে যায়।এরপর ২০১৬ সালে পুনঃ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত নেতৃত্ব দিচ্ছেন `বাঙলা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি(বিসিডিএস) “এর।
তার পাশাপাশি তিনি নিজেও একজন দেশ সেরা জাতীয় বিতার্কিক হিসেবেও পরিচিত। জাতীয় পর্যায়ে কলেজ কে এনে দিয়েছেন একাধিক চ্যাম্পিয়ন ট্রফি, একাধিকবার কলেজকে বানিয়েছেন বাঙলা দেশের সকল স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের শিরোনাম।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম-আহ্বায়ক(১)এবং বর্তমানে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন `বাঁধন”,কলেজ শাখা।

প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক(১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন,” বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতি(বাকসাস)”।

বাঙলা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহিত্য চর্চার বিষয়টি অনুধাবন করে প্রতিষ্ঠা করেছেন, “ঐতিহ্যে বাঙলা(সরকারি বাঙলা কলেজ ভিত্তিক একটি সাময়িকী পত্রিকা) ” এবং বর্তমানে এটির সম্পাদক হিসেবে ও দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও একাত্তরের চেতনা নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের সদস্য সচিব হিসেবে ও দায়িত্ব পালন করছেন সমাজকর্ম বিভাগের এই শিক্ষার্থী।

এই বিষয়ে সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যপক সাবিহা সুলতানা ম্যামের সাথে আলাপচারিতায় তিনে বলেন,
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক হিসেবে আমি ধন্য।
আমাদের প্রাণপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের একাগ্রতা, সৌজন্যবোধ , বিনয় এবং অধ্যবসায় মনোযোগ এই সফলতার প্রধান কারণ বলে আমি মনে করি। তবে বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষকবিন্দের বিভাগের প্রতি প্রগাঢ় যত্নশীলতা পরিচর্যা ছাত্র-শিক্ষক সুঠাম সম্পর্ক এর পিছনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে । এক্ষেত্রে আমি অপার শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে চাই বর্তমান বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডঃ শাহীন আরা আপার আন্তরিক কর্মতৎপরতার কথা । সর্বোপরি ছাত্রদের নিয়মনিষ্ঠা , মনোযোগ অধ্যবসায় ও ছাত্র-শিক্ষক নিবিড় সম্পর্ক এর মূল ভিত্তি বলে আমি বিশ্বাস করি।।

বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,
অনেক অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আমাদের বিভাগে রয়েছে। তারা পড়াশোনা,লেখালেখি , বিতর্ক,খেলাধুলা, স্কাউটিং এ সেরা অবস্থানে আছে। মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, সৃজনশীলতার চর্চা,গঠনমূলক রাজনীতি, কারিগরি জ্ঞান অর্জন, শিক্ষকদের আদেশ নিষেধ মেনে চলা, অধ্যবসায়, সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় অর্থাৎ সাধারণ জ্ঞানের চর্চা এবং নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকলেই ছাত্রছাত্রীরা আরো এগিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।।
সমাজকর্ম বিভাগের এই শিক্ষক আরো বলেন,বর্তমান কলেজ প্রশাসনের গতিশীল নেতৃত্ব বিভাগকে উৎসাহিত করছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে