কবির সিকদার, বেতাগী উপজেলা প্রতিনিধিঃ
ঢাকা-বরগুনা নৌরুটে প্রথমবারের মতো চালু হলো অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল লঞ্চ এম ভি রাজারহাট-বি। লঞ্চটি নির্মাণ করেছে দেশের অন্যতম নৌযান প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান এম কে শিপিংলাইনস।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলাচলের জন্য শুক্রবার (২৪ জুলাই) বরগুনা নদী বন্দরে সকাল সাড়ে এগারোটায় বিলাসবহুল লঞ্চ এম ভি রাজারহাট-বি এর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন বরগুনার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক জনাব মোস্তাইন বিল্লাহ।
পরিবেশ আন্দোলন বরগুনার সাধারন সম্পাদক জনাব মুশফিক আরিফের সঞ্চালনায় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মফিজুল ইসলাম, এম কে শিপিং লাইন্সের এম ডি জনাব মাসুম চৌধুরী, পরিবেশ আন্দোলন বরগুনার সভাপতি জনাব সুখরঞ্জন শীল, সামাজিক আন্দোলন বরগুনার সভাপতি হাসানুর রহমান ঝন্টু, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি জনাব নজরুল ইসলাম মোল্লা, সাবেক পৌর মেয়র এ্যাড শাজাহান বরগুনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাম মনিরুল ইসলামসহ্ আরও অনেকে।

ঢাকা-বরগুনা নৌরুটে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আরও বেশ কয়েকটি লঞ্চ চলাচল করছে। তবে এমভি রাজারহাট-বি লঞ্চটি আধুনিক সাজসজ্জা, নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির দিক দিয়ে অন্য লঞ্চগুলোকে হার মানাবে বলে জানিয়েছেন মালিকপক্ষ।
অত্যাধুনিক, বিলাসবহুল এ লঞ্চটিতে যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে রাখা হয়েছে নানান ব্যবস্থা। ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট, ওয়াইফাই সুবিধাসহ বিনোদনের নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর এই লঞ্চে।
এছাড়া যাত্রীদের নামাজের জন্য আলাদা স্থান। নিরাপত্তার জন্য পুরো নৌযানটি সিসি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র আনসার বাহীনি লঞ্চে সর্বদা দায়িত্ব পালন করবেন।
এম কে শিপিং লাইন্সের স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশিদ বলেন, লঞ্চটি অনুমোদিত যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৭’শ জন। এছাড়াও প্রায় ৫’শ টন পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে নৌযানটির। লঞ্চটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর অন্দরসজ্জা। একশ টি সাধারন কেবিন, ফ্যামিলি, ভিআইপি, সেমি ভিআইপি কেবিন রয়েছে আরও ১২০ টি। বর্ণিল বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা দিয়ে আলোকিত করা হয়েছে লঞ্চটিকে। লঞ্চের প্রতিটি কেবিনে দৃষ্টিনন্দন আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে।
লঞ্চটিতে আধুনিক রাডার ছাড়াও জিপিএস পদ্ধতি সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে লঞ্চটি চলাচলরত নৌপথের ১ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে গভীরতা ছাড়াও এর আশপাশের অন্য যেকোনো নৌযানের উপস্থিতি চিহ্নিত করতে পারবে। এমনকি ঘন কুয়াশার মধ্যেও নৌযানটি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে